ব্রিটেনের রিয়েল এস্টেট খাতে নতুন ফ্ল্যাট বা বাড়ির সরবরাহ বেড়েছে। এতে ব্যক্তিগত বাড়ির গড় ভাড়া ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো কমেছে। প্রোপার্টি ওয়েবসাইট রাইটমুভ সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান।
যুক্তরাজ্যে কয়েক বছর ধরে প্রতি প্রান্তিকে বাড়ি ভাড়া বাড়ার নতুন রেকর্ড হচ্ছিল। রাইটমুভ বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় অনেক ভাড়াটিয়া আগে থেকেই সংকটে ছিলেন। ভাড়া বাড়ায় তারা এ বাবদ খরচ বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে লন্ডনের বাইরে গড় ভাড়া কমে মাসিক ১ হাজার ৩৪১ পাউন্ডে নেমেছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম ভাড়া কমার ঘটনা।
বর্তমানে লন্ডনের বাইরে গড় মাসিক ভাড়া আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৩ পাউন্ড কম। তবু গড় ভাড়া গত বছরের তুলনায় এখনো ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। রাইটমুভ বলছে, কয়েক বছর ধরে ভাড়া ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২২ সালে বার্ষিক ১২ শতাংশে পৌঁছেছিল। তাই ভাড়া কমার বিষয়টি”ভাড়াটিয়াদের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
কিন্তু লন্ডনে ভাড়াটিয়াদের জন্য তেমন কোনো সুখবর নেই। শহরটিতে গড় বাড়ি ভাড়া আরো বেড়ে প্রতি মাসে রেকর্ড ২ হাজার ৬৯৫ পাউন্ডে পৌঁছেছে।
কভিড-১৯ মহামারী ও তার প্রভাবে মানুষ কাজ বা জীবনযাত্রার জন্য স্থান পরিবর্তন করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। এর প্রভাবে গত কয়েক বছরে ভাড়া বাড়ে। ফলে অনেক এলাকায় বাসস্থানের জন্য প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছিল।
তবে এ প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। লিভারপুলের বার্কলে শ’ রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জন বেবাট বলেন, ‘ভাড়াটিয়াদের চাহিদা এখন স্থিতিশীল হচ্ছে। মহামারী-পরবর্তী সময়ে নতুন ভাড়ার চাহিদা কমে গেছে। কেউ কেউ বাড়ি কিনতে আগ্রহী হয়েছেন।’
রাইটমুভ জানিয়েছে, সম্পত্তি খাতে সরবরাহ বাড়ায় ভাড়া ধীরগতিতে বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় ভাড়ার জন্য পাওয়া বাড়ির সংখ্যা ১৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে নতুন বাসস্থানের জন্য লেটিং এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগকারী ভাড়াটিয়াদের সংখ্যা ১৬ শতাংশ কমেছে।
বিডওয়েলসের পার্টনার ও আবাসিক লেটিংস প্রধান অ্যালেক্স ব্লক্সহাম বলেন, ‘গত বছর ভাড়াটিয়াদের তীব্র চাহিদা ছিল। ফলে তারা ধারাবাহিক ভাড়া বৃদ্ধির মুখোমুখি হয়েছিলেন। এখন চাহিদা কমতে দেখা যাচ্ছে।’
রাইটমুভ জানিয়েছে, অনেক বাড়িওয়ালা তাদের বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ২০২৪ সালে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত বাড়িগুলোর ১৫ শতাংশ আগে ভাড়ার জন্য পাওয়া গিয়েছিল, যা আগের বছরের ১৩ শতাংশ থেকে বেশি। এর প্রভাব লন্ডনে সবচেয়ে বেশি পড়েছে। সেখানে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত বাড়ির প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৪ শতাংশ) আগে ভাড়ার জন্য ছিল। ২০২৩ সালে এ হার ছিল ২০ শতাংশ।